মাদানীর কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসব ফোনে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পর্নোছবি, ভিডিওচিত্র ও লিংক পাওয়া গেছে, যা তার ভণ্ড চরিত্রের পরিচয় বহন করে’


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র‌্যাবের দায়ের করা মামলায় আলোচিত “শিশুবক্তা” রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমটি’র) ডিসি ইলতুৎমিশ জানান, গত বুধবার রাতে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে (২৬) নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার লেটিরকান্দা এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। তিনি ওই এলাকার মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে। আটকের পর রফিকুল ইসলাম মাদানীকে ওই রাতেই গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে ওই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। র‌্যাব-১ এর জেসিও-৮৭২৭ নায়েব সুবেদার (ডিএডি) আব্দুল খালেক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের আদেশে পরে তাকে গাজীপুর জেলা কারাগার নিয়ে যাওয়া হয়।

র‌্যাব-১ এর সহকারি পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার বলেন, “আটক রফিকুল ইসলাম মাদানীর কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তার মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পর্নোছবি, ভিডিওচিত্র ও লিংক পাওয়া গেছে, যা তার ভণ্ড চরিত্রের পরিচয় বহন করে।”

গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার বজলুর রশিদ আকন্দ বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তাকে এ কারাগারে বুঝে নেয়া হয়েছে।”

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের গাছা থানাধীন বোর্ড বাজার কলমেশ্বর এলাকার শীতক ফ্যাক্টরির ভেতর একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। মাহফিলে তিনি রাষ্ট্র তথা সরকার বিরোধী ও আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। যা তার নির্দেশে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার অনুসারীরা গত ২৬ মার্চ ঢাকা বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা করে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। 



এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করা, জনমনে আতংক সৃষ্টি, সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটানো, আইন শৃঙ্খলা বিনষ্ট করা, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে শত্রুতাসহ সরকারের প্রতি ঘৃণাভাব সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশে দেশের সরল ও ধর্মানুরাগী মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করে বক্তব্য প্রদান করেন, যা ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।    

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি বিভিন্ন সময়ে দেশ ও সমাজের জন্য ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এরূপ উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলাসহ জনমনে আতংক সৃষ্টি করেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বার্থ পরিপন্থী বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত থেকে ধর্মীয় অর্থাৎ কোরান হাদীসের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

গাজীপুরে তার মাদ্রাসায় তালা

গাজীপুর মহানগরের বাড়িয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে মারকাজুন নূর আল ইসলামিয়া নামে একটি আবাসিক মাদ্রাসা রয়েছে। রফিকুল ইসলাম মাদানী ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও পরিচলক। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে মাদাসাটির ফটকে ভেতর থেকে দুইটি তালা ঝুলছে।

এ সময় সেখানে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নিiiiiiiiiiiiiii

Leave a Reply