মূসা আ: যখন তার কওমকে জেরুজালেম বিজয় অভিযান পরিচালনা করার আদেশ দিলেন তখন শুধুমাত্র দুইজন ব্যক্তি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে রাজি হয়েছিলেন ইউশা বিন নূন আ: ও কালিব। তাদের কথা পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এভাবে বলেছেন,
“তাদের মধ্যের এমন দুইজন যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং মহান আল্লাহ তাদের উপর দয়া করেছেন তারা বলল, তোমরা এই শহরে প্রবেশ করো! যদি তোমরা এই শহরে প্রবেশ করো তোমরাই বিজয়ী হবে। আর তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো তাহলে ভরসা করো একমাত্র আল্লাহর উপর”।
মূসা আ:-এর মৃত্যুর পর বনু ইসরাইলের দায়িত্ব পান উক্ত দুইজনের একজন ইউশা বিন নূন। চল্লিশ বছরের আল্লাহর আযাব শেষ হলে তিনি তাদেরকে নিয়ে জেরুযালেম বিজয় করার জন্য রওয়ানা দেন। যুদ্ধ শুরু হয়। প্রবল যুদ্ধের এক পর্যায়ে শুক্রবারের দিন বিকেল বেলা তারা যুদ্ধ জয়ের অতি নিকটে পৌছে যায়। কিন্তু তাদের দ্বীনের বিধান ছিলো শনিবারের পবিত্র দিনে যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধ থাকবে। তথা শুক্রবার দিনের সূর্য ডুবে গেলে শনিবার শুরু হয়ে যাবে এবং তারা এই যুদ্ধ আর কন্টিনিউ করতে পারবেনা। তখন ইউশা বিন নূন মহান আল্লাহর নিকট দুয়া করলেন এবং সূর্যকে লক্ষ্য করে বললেন,
হে সূর্য তুমি আল্লাহর আদেশে আদিষ্ট আর আমিও আল্লাহর আদেশে আদিষ্ট। হে আল্লাহ আপনি এই সূর্যকে আমাদের জন্য থামিয়ে দিন। (বুখারী, হা/৩১২৪)
অতপর মহান আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত সূর্যকে থামিয়ে দিলেন। শুধুমাত্র জেরুযালেম বিজয় সম্পন্ন করতে দেওয়ার জন্য আল্লাহু আকবার! রাসূল সাঃ বলেন,
নিশ্চয় মহান আল্লাহ পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি ইউশা বিন নূনের জন্য সূর্যকে থামিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে তারা বায়তুল মাক্বদিস বিজয় করতে পারে। (মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৩১৫)
শিক্ষা: জেরুজালেম কখনোই শক্তি দিয়ে বিজয় করা যায়নি। একমাত্র আল্লাহ ভরসা ও ঈমানী শক্তি দিয়েই বিজয় করা সম্ভব। আল্লাহ ভরসা ও ঈমানি শক্তি থাকলে এমন অলৌকিক কিছুর মাধ্যমেই আল্লাহ সেই বিজয়কে তরান্বিত করে দিবেন।
আল্লাহু আকবার
