“আমি আমার স্বামীকে হত্যা করতে চাই!” কিন্তু তারপর…
একজন বিবাহিত তরুণী দাম্পত্য জীবনে এতটাই ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল যে, একদিন সকালবেলা মায়ের কাছে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল:

“মা, আমি আর পারছি না। স্বামীর রূঢ় ব্যবহার, অবহেলা, কথায় কথায় খোঁটা সবকিছু অসহ্য লাগছে। আমি তাকে হত্যা করতে চাই! কিন্তু ভয় পাচ্ছি, আইন যদি আমাকে ধরে ফেলে?”
মা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
“হ্যাঁ মা, আমি তোমাকে সাহায্য করবো। তবে তুমি যদি সত্যি তাকে সরিয়ে দিতে চাও, তাহলে তোমাকে কয়েকটি শর্ত পালন করতে হবে।”
মেয়ে বিস্ময়ে বলল,
“আমি যে কোনো শর্ত মেনে নিতে রাজি! শুধু এই মানুষটাকে আর সহ্য হচ্ছে না!”
মা এবার শান্ত গলায় বললেন:
কাজগুলো হলো:
১. তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলো, যাতে সে মারা গেলেও কেউ তোমার উপর সন্দেহ না করে।
২. নিজেকে আকর্ষণীয় রাখো সাজো, হাসো, আলোর মতো উপস্থিতি তৈরি করো।
৩. তার প্রতি যত্নবান হও তার শরীর, মন, চাহিদা বুঝে নাও।
4. কোনো হিংসা নয়, শুধু ধৈর্য আর সহানুভূতি দিয়ে তার মন জিতে নাও।
5. তার পছন্দের খাবার তৈরি করো, নিজের পছন্দ নয় তারটা প্রাধান্য দাও।
6. তাকে সম্মান দেখাও, এমনকি সে তোমাকে অসম্মান করলেও।
7. তাকে সময় দাও, শ্রোতা হও, বিচারক নও।
8. অভিযোগ নয়, প্রশংসা করো সৎভাবে, প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো দিক বলো।
9. নিজের টাকা খরচ করে হলেও তার জন্য কিছু করো ৷ কিন্তু কোনো প্রত্যাশা রেখো না।
10. তুমি যখন বদলাবে, সেও বদলাবে এটাই জীবন ও সম্পর্কের নিয়ম।
মা শেষে বললেন,
“এই প্যাকেটটায় আমি তোমাকে এক বিশেষ পাউডার দিলাম। প্রতিদিন তার খাবারে একটু করে মিশিয়ে দিও। এই পাউডার ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে।”
৩০ দিন পর…
মেয়েটি ছুটে এলো মায়ের কাছে, চোখে জল, গলায় কাঁপন:
“মা! প্লিজ! এখন আমি চাই না সে মারা যাক। আমি তাকে ভালোবাসি। সে বদলে গেছে। সে এখন আগের সেই নিষ্ঠুর লোকটা নেই সে হাসে, কথা শোনে, আমায় সম্মান করে। তাকে বাঁচাতে পারি না মা?”
মা হেসে উত্তর দিলেন:
“চিন্তা করো না মা। আমি যে পাউডার দিয়েছিলাম, সেটা তো শুধুই হলুদের গুঁড়া।
যেটা তুমি আসলে বদলেছো তা হচ্ছে তোমার মনোভাব, ভাষা আর আচরণ।
সেই পরিবর্তনের প্রভাবেই বদলে গেছে তোমার স্বামী।
তুমি নিজেই ছিলে সেই ‘বিষ’ অসন্তোষ, রাগ, অবজ্ঞা যা সম্পর্ককে ধ্বংস করছিলো।”
ম্যাজিকটা কী ঘটল ?
সম্পর্ক একতরফাভাবে ভালো বা খারাপ হয় না দুই পক্ষের আচরণ ও মনোভাবের প্রতিফলনই এর রূপ নির্ধারণ করে।
আপনি যখন বদলান, তখন আপনার চারপাশও বদলাতে শুরু করে।
মানুষের বদল শুরু হয় বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ দিয়ে ৷ ক্ষমতা বা জোর করে নয়।
নিজের ভুল, অভিযোগ বা নেতিবাচক অভ্যাসগুলো আগে সংশোধন করুন তাহলে মানুষ অন্যের ভালো পরিবর্তন দেখতে পায়।
ভালোবাসা মানে নিখুঁত হওয়া নয়, বরং অপরের ত্রুটি মেনে নিয়ে একসাথে এগিয়ে যাওয়া।
মনোবিজ্ঞানী যা বলেন:
Harvard Medical School-এর গবেষণা মতে, “দাম্পত্য জীবনে মনোযোগ, কৃতজ্ঞতা, ও প্রশংসা যদি ধারাবাহিকভাবে চর্চা করা হয়, তাহলে সম্পর্কের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।”
শেষ কথা:
সম্পর্কের বিষ আসলে বাইরে নয়, অনেক সময় ভেতরেই থাকে। আর সেই বিষ নিরসনের প্রথম পদক্ষেপ হলো নিজেকে বদলানো।
আপনার মনের পরিবর্তনই পারে, অন্যের মন বদলে দিতে।
