ঢাকা বিভাগ এর তথ্যঃ
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী ও মহানগর বা বৃহত্তম শহর। প্রশাসনিকভাবে এটি ঢাকা বিভাগের ও জেলার প্রধান শহর। ভৌগোলিকভাবে এটি বাংলাদেশের মধ্যভাগে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি সমতল অঞ্চলে অবস্থিত। ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ায় মুম্বাইয়ের পরে দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক শহর। ঢাকার জিডিপি ১৮৮$ বিলিয়ন (২০২৩)। এছাড়া ঢাকার পিপিপি ২৯৭.৮৭$ বিলিয়ন (২০২৩)। ভৌগোলিকভাবে ঢাকা একটি অতিমহানগরী বা মেগাসিটি; ঢাকা মহানগরীর মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ৩২ লাখ ১৫ হাজার ১০৭ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২.৮ ভাগ।[১০] জনসংখ্যার বিচারে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম শহর। জনঘনত্বের বিচারে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর; ৩০৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২৩ হাজার লোক বাস করে।
ঢাকা শহর “মসজিদের শহর” নামেও সুপরিচিত। এখানে প্রায় দশ হাজারেরও বেশি মসজিদ আছে (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর তথ্য মতে)। এই শহরে রোজ প্রায় ৫ লক্ষ রিকশা চলাচল করে। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বাণিজ্যকেন্দ্র।
ঢাকা শহরের জলবায়ু ক্রান্তীয় আর্দ্র ও শুষ্ক প্রকৃতির। গড় তাপমাত্রা এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন প্রায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই অঞ্চলে বর্ষাকাল, সেসময় প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
সপ্তদশ শতাব্দীতে পুরান ঢাকা মুঘল সাম্রাজ্যের সুবা বাংলা (বাংলা প্রদেশ) এর প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে এই শহর জাহাঙ্গীর নগর নামে পরিচিত ছিলো। বিশ্বব্যাপী মসলিন বাণিজ্যের একটি কেন্দ্র ছিলো ঢাকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীগণ এখানে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসতেন। ঢাকাতে বিশ্বের সেরা মসলিন কাপড় উৎপাদিত হতো।[১৭] যদিও আধুনিক ঢাকা শহরের বিকাশ ঘটে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসন আমলে, এই সময় নবাবগণ ঢাকা শাসন করতেন। এই সময় কলকাতার পরেই ঢাকা বাংলা প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী হয়ে ওঠে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পরে ঢাকা নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পরে ঢাকা পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক রাজধানীতে পরিণত হয়। ১৯৫০-১৯৬০ সালের মধ্যে এই শহর বিভিন্ন সামাজিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে ঢাকা “স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজধানী” ঘোষিত হয়। ইতঃপূর্বে সামরিক আইন বলবৎ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, সামরিক দমন, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তাণ্ডবলীলার মতো একাধিক ঘটনার সাক্ষী হয় এই শহর।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। আধুনিক ঢাকাকে বাংলাদেশের আপামর জনতা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে। এটির প্রশংসিত জাতীয় দর্শনীয় স্থানগুলো যেমনঃ জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ,মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, হাতিরঝিল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, তারা মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, আর্মেনীয় গির্জা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান।
এই শহরের অবকাঠামো বিশ্বের মধ্যে উন্নত হলেও দূষণ, যানজট এবং শহরমুখী মানুষের আধিক্যের কারণে জীবনমান উন্নয়নে ঋনাত্মক প্রভাব লক্ষ্যণীয়। সাম্প্রতিক দশকগুলিতে ঢাকার পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, গণপূর্ত ব্যবস্থায় যে আধুনিকীকরণ হয়েছে, তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বর্তমানে এই শহর প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগ টানতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। সারা দেশ থেকে প্রচুর মানুষ ঢাকায় আসেন জীবন ও জীবিকার সন্ধানে। এ কারণে ঢাকা হয়ে উঠেছে বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান নগরী, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া, জাপান, চীন, ভারত সহ বিভিন্ন দেশ অর্থ সহযোগিতা ও বিনিয়োগ করছে।[২১][২২]
নামকরণের ইতিহাস
ঢাকার নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো, তাই রাজা, মন্দিরের নাম রাখেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে।
আবার অনেক ঐতিহাসিকের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন; তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশস্বরূপ শহরে “ঢাক” বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্তির রূপ নেয় এবং তা থেকেই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, মোঘল সাম্রাজ্যের বেশ কিছু সময় ঢাকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর নামে পরিচিত ছিলো।
ঢাকা নগরীকে বর্তমানে দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে – ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর। ঢাকা দক্ষিণই হলো পুরাতন মূল নগরী। ঢাকা উত্তর ঢাকার নবীন বর্ধিত উপশহরগুলো নিয়ে গঠিত।
প্রশাসনিক বিভাজন
ঢাকা বিভাগ ১৩টি জেলা, ৪টি সিটি কর্পোরেশন, ১২৩টি উপজেলা, ৫৮টি পৌরসভা, ১,২৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদ, ১২,৭৬৫টি মৌজা, ৫৪৯টি ওয়ার্ড, ১,৬২৩টি মহল্লা এবং ২৫,২৪৪টি গ্রাম নিয়ে গঠিত।
| নাম | সদর | এলাকা (কিমি ²) | জনসংখ্যা ১৯৯১ জনগণনা |
জনসংখ্যা ২০০১ জনগণনা |
জনসংখ্যা ২০১১ জনগণনা (প্রাথমিক/চূড়ান্ত ফলাফল) |
|
||
| ফরিদপুর জেলা | ফরিদপুর | ২,০৭২.৭২ | ১৫,০৫,৬৮৬ | ১৭,৫৬,৪৭০ | ১৮,৬৭,০০০ | |||
| রাজবাড়ী জেলা | রাজবাড়ী | ১,১১৮.৮০ | ৮,৩৫,১৭৩ | ৯,৫১,৯০৬ | ১০,৪০,০০০ | |||
| গোপালগঞ্জ জেলা | গোপালগঞ্জ | ১,৪৮৯.৯২ | ১০,৬০,৭৯১ | ১১,৬৫,২৭৩ | ১১,৪৯,০০০ | |||
| মাদারীপুর জেলা | মাদারীপুর | ১,১৪৪.৯৬ | ১০,৬৯,১৭৬ | ১১,৪৬,৩৪৯ | ১১,৪৯,০০০ | |||
| শরীয়তপুর জেলা | শরীয়তপুর | ১,১৮১.৫৩ | ৯,৫৩,০২১ | ১০,৮২,৩০০ | ১১,৪৬,০০০ | |||
| ঢাকা জেলা | ঢাকা | ১,৪৫৯.৫৬ | ৫৮,৩৯,৬৪২ | ৮৫,১১,২২৮ | ১,১৮,৭৫,০০০/১২,০৪৩,৯৭৭ | |||
| মানিকগঞ্জ জেলা | মানিকগঞ্জ | ১,৩৮৩.০৬ | ১া১,৭৫,৯০৯ | ১২,৮৫,০৮০ | ১৩,৭৯,০০০ | |||
| গাজীপুর জেলা | গাজীপুর | ১,৭৪১.৫৩ | ১৬,২১,৫৬২ | ২০,৩১,৮৯১ | ৩৩,৩৩,০০০ | |||
| মুন্সীগঞ্জ জেলা | মুন্সীগঞ্জ | ৯৫৪.৯৬ | ১১,৮৮,৩৮৭ | ১২,৯৩,৯৭২ | ১৪,২০,০০০ | |||
| নারায়ণগঞ্জ জেলা | নারায়ণগঞ্জ | ৬৮৭.৭৬ | ১৭,৫৪,৮০৪ | ২১,৭৩,৯৪৮ | ২৮,৯৭,০০০ | |||
| নরসিংদী জেলা | নরসিংদী | ১,১৪০.৭৬ | ১৬,৫২,১২৩ | ১৮,৯৫,৯৮৪ | ২২,০২,০০০ | |||
| টাঙ্গাইল জেলা | টাঙ্গাইল | ৩,৪১৪.৩৯ | ৩০,০২,৪২৮ | ৩২,৯০,৬৯৬ | ৩৫,৭১,০০০ | |||
| কিশোরগঞ্জ জেলা | কিশোরগঞ্জ | ২৬৮৯ | ২৩,০৬,০৮৭ | ২৫,৯৪,৯৫৪ | ২৮,৫৩,০০০ | |||
| মোট | ১৩ | ৩১,০৫১.৩৯ | ৩,২৬,৬৫,৯৭৫ | ৩,৯০,৪৪,৭১৬ | ৩,৫৮,৮১,০০০/৩,৫৮,৮১,০০০ |
| ঢাকা | |
| রাজধানী ও অতিমহানগরী | |
| মতিঝিলের দিগন্ত রূপরেখা
জাতীয় সংসদ ভবন পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল লালবাগ কেল্লা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান স্বাধীনতা স্তম্ভ |
|
| ব্র্যান্ডিং লোগো | |
| ডাকনাম: প্রাচ্যের ভেনিস,মসজিদের শহর, রিকশার শহর | |
| ঢাকার অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৫′৫০″ উত্তর ৯০°২৩′২০″ পূর্ব | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | ঢাকা বিভাগ |
| জেলা | ঢাকা জেলা |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১৬০৮ (৪১৬ বছর আগে) |
| শহরের মর্যাদা প্রদান | ১৯৪৭ |
| সরকার | |
| • ধরন | মেয়র – কাউন্সিলর |
| • শাসক | · ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
· ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন |
| • ঢাকা উত্তরের প্রশাসক | মোহাম্মদ এজাজ |
| • ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক | মহ. শের আলী |
| • পুলিশ কমিশনার | শেখ মো. সাজ্জাত আলী |
| আয়তন | |
| • রাজধানী ও অতিমহানগরী | ২৭০ বর্গকিমি (১০০ বর্গমাইল) |
| • মহানগর | ১,৬০০ বর্গকিমি (৬১৮ বর্গমাইল) |
| উচ্চতা | ৩২ মিটার (১০৪.৯৬ ফুট) |
| জনসংখ্যা (২০২২) | |
| • রাজধানী ও অতিমহানগরী | ১,০২,৭৮,৮৮২ |
| • জনঘনত্ব | ৩৮,০০০/বর্গকিমি (৯৯,০০০/বর্গমাইল) |
| • মহানগর | ২,২৪,৭৮,১১৬ |
| • মহানগর জনঘনত্ব | ১৪,০০০/বর্গকিমি (৩৬,০০০/বর্গমাইল) |
| • শহরের র্যাংক | বাংলাদেশে প্রথম |
| • মেট্রো র্যাংক | বাংলাদেশে প্রথম; দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়; এশিয়ায় নবম; বিশ্বে নবম |
| বিশেষণ | ঢাকাইয়া বা ঢাকাই |
| সময় অঞ্চল | বাংলাদেশ মান সময় (ইউটিসি+০৬:০০) |
| পোস্ট কোড | ১০০০, ১১০০, ১২xx, ১৩xx |
| যানবাহন নিবন্ধন | DHAKA-D-11-9999″”111 |
| এইচডিআই (২০২১) | ০.৭৪৫ উচ্চ · বাংলাদেশে প্রথম |
| এলাকার টেলিফোন কোড | ০২ |
| সাক্ষরতার হার | ৯৫.৭০% |
| আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর |
| র্যাপিড ট্রানজিট | ঢাকা মেট্রোরেল |
| মেট্রোপলিটন পরিকল্পনাকারী কর্তৃপক্ষ | রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ |
| পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ | ঢাকা ওয়াসা |
| মেট্রো জিডিপি ২০২৩ (মার্কেট এক্সআর) | $৯৫ বিলিয়ন (মাথাপিছু $৪,০১৮) |
| মেট্রো জিডিপি ২০২৩ (পিপিপি) | $৩১৬ বিলিয়ন (মাথাপিছু $১৩,৬১৪) |
| UN/LOCODE | BD DAC |
| ওয়েবসাইট | ঢাকা উত্তর ঢাকা দক্ষিণ |
সংগ্রহীতঃ
