এটাই আমানত, এটাই ইসলাম
একজন আলেম তার এক বন্ধুর কাছ থেকে একটি কলম ধার নেন।
তখন তিনি সিরিয়ায় ছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন কলমটি ফেরত দিয়েছেন।
সফর শেষে যখন বাসায় ফিরেন, তখন দেখতে পান কলমটি তার কাছেই রয়ে গেছে!
তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন কলমটি তার বন্ধুকে ফেরত দিতে যাবেন।
ঘটনাটি আজ থেকে প্রায় ১৩০০ বছর আগের। সেই যুগে প্লেন ছিলো না, গাড়ি ছিলো না। হেঁটে, উট-ঘোড়ায় চড়ে ভ্রমণ করতে হতো।
সেই আলেম বন্ধুকে কলম ফেরত দিতে গেলেন।
চিন্তা করতে পারেন ‘সামান্য’ একটি কলম ফেরত দিতে তিনি কতো দূর ভ্রমণ করেন?
মার্ভ থেকে সিরিয়ার দূরত্ব প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার। গুগল ম্যাপে দেখাচ্ছে একটানা বিশ্রাম ছাড়া হেঁটে গেলে ৬৫৬ ঘণ্টা লাগে। একটানা হাঁটলে প্রায় ২৭ দিন!
আমানত রক্ষার ব্যাপারে সেই আলেম কতোটা মনোযোগী ছিলেন ভাবা যায়?
সেই আলেম হলেন তৎকালীন যুগের হাতেগোনা মুহাদ্দিসদের একজন যিনি ‘আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস’ তথা হাদীস বিশেষজ্ঞ উপাধি লাভ করেছিলেন।
তাঁর নাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ।
[সিয়ারু আ-লামিন নুবালা: ১৫/৪১১]
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَخُوۡنُوا اللّٰهَ وَ الرَّسُوۡلَ وَ تَخُوۡنُوۡۤا اَمٰنٰتِكُمۡ وَ اَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۲۷﴾
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের খিয়ানত করো না। আর খিয়ানত করো না নিজদের আমানতসমূহের, অথচ তোমরা জান। আল-বায়ান
হে মু’মিনগণ! তোমরা জেনে বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, আর যে বিষয়ে তোমরা আমানাত প্রাপ্ত হয়েছ তাতেও বিশ্বাস ভঙ্গ করো না। তাইসিরুল
হে মু’মিনগণ! তোমরা জেনে শুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করনা এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাস ভঙ্গ করনা। মুজিবুর রহমান
O you who have believed, do not betray Allah and the Messenger or betray your trusts while you know [the consequence]. Sahih International
২৭. হে ঈমানদারগণ! জেনে-বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের খেয়ানত করো না(১) এবং তোমাদের পরস্পরের আমানতেরও(২) খেয়ানত করো না(৩);
(১) আল্লাহর আমানত বলতে অধিকাংশের মতে যাবতীয় ফরয কাজ বুঝানো হয়েছে। আর রাসূলের আমানত বলতে তার সুন্নাত ও নির্দেশ বুঝানো হয়েছে। সে হিসাবে খেয়ানত হলো সেগুলো না মানা। [ফাতহুল কাদীর]
(২) নিজেদের আমানত বলতে সে সব দায়িত্ব বুঝানো হয়েছে, যা কারো প্রতি আস্থা স্থাপন করে তার উপর ন্যস্ত করা হয়। তা ওয়াদা পূরনের দায়িত্ব হতে পারে, সামগ্রিক সামাজিক চুক্তি হতে পারে, কোন সংস্থার আভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য হতে পারে, ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত ধন-সম্পদ হতে পারে। কারো প্রতি বিশ্বাস করে জনসমাজ যদি তাকে কোন দায়িত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করে তবে তাও এর মধ্যে শামিল মনে করতে হবে। বিস্তারিত জানার জন্য সূরা আন- নিসার ৫৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দেখুন।
(৩) আয়াতের দুটি অর্থ হতে পারে, প্রথম অর্থ যা উপরে করা হয়েছে। অর্থাৎ তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না এবং তোমাদের আমানতসমূহেরও খেয়ানত করো না। [তাবারী; ইবন কাসীর] দ্বিতীয় অর্থ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না কারণ এতে করে তোমরা তোমাদের উপর অর্পিত আমানতেরই খেয়ানত করে বসবে। [তাবারী; বাগভী]
তাফসীরে জাকারিয়া
(২৭) হে বিশ্বাসীগণ! জেনে-শুনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত (গচ্ছিত দ্রব্য) সম্পর্কেও নয়। [1]
[1] আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অধিকারে খিয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) এই যে, জনসমাজে আল্লাহর ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করা তথা নির্জনে তার বিপরীত পাপে লিপ্ত হওয়া। অনুরূপভাবে এটিও খিয়ানত যে, ফারায়েযের মধ্যে কোন ফরয ছেড়ে দেওয়া ও নিষিদ্ধ জিনিষের মধ্যে কোন কিছু করা। পরস্পরের আমানতে খিয়ানত করতেও নিষেধ করা হয়েছে। নবী (সাঃ)ও আমানত রক্ষার ব্যাপারে খুব বেশি তাকীদ করেছেন। হাদীসে এসেছে যে, নবী (সাঃ) প্রায় খুতবায় এ কথাটি অবশ্যই বলতেন, ‘‘যে আমানত রক্ষা করে না তার ঈমান নেই, যে চুক্তি রক্ষা করে না, তার দ্বীন নেই।’’ (আহমাদ)
